সহনশীলতা
বেশিরভাগ মানুষের সহনশীলতা নির্ভ র করে তার নিজস্ব লিমিটের উপর। একজন যদি বিয়ের আগে সেক্স না চায় কিন্তু প্রেম করতে চায়, তার মধ্যে প্রিম্যারিটাল সেক্স করা একজন ব্যক্তিকে খারাপ মনে করার প্রবণতা থাকতে পারে। বেশিরভাগ সময় এই লিমিটের কোনো লজিক থাকে না। “Where to draw the line?”-এর কোনো বেসিস থাকে না। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকেই ইউনিভার্সাল এথিকসের বেসিস ধরে চলে এরা। কিছু ক্ষেত্রে এই ইললজিক্যাল লিমিটের কারণ হিসাবে ফলস ইকুইভ্যালেন্স ব্যবহার করা হয়। যেমন, সমকামিতার সাথে ধর্ষণের তু লনা কিংবা জেন্ডার আইডেন্টিটির সাথে প্রিটেনশনের তু লনা। সবসময় যে এই লিমিট প্রেফারেন্সের উপরেই নির্ভ র করে এমন নয়, কিছু সময় এই লিমিট তৈরি হয় জীবনযাপনের ধরণের উপর। যেমন, কোনো মেয়ে পরিবারের কারণে খোলামেলা পোশাক পরতে পায় না, সে অন্য মেয়েদের খোলামেলা পোশাকে দেখলে খারাপ মানুষ হিসাবে বিবেচনা করতে পারে। কিছু সময় এই লিমিটের কারণ হিসাবে দেওয়া হয় “It’s disgusting.” আরও এমন কয়েকটা উদাহরণ দেখা যায়। কেউ গে হয়ে প্যানসেক্সুয়ালিটি ঘৃণা করে। কেউ প্রিম্যারিটাল সেক্স সাপোর্ট করলেও ক্যাজুয়াল সেক্স করাটাকে জাজ করে। কেউ ৬০% ধর্মপালন করে ৫৫% ধর্মপালন করা ব্যক্তিকে জাজ করে। কেউ নিজে সাঁওতালি ভাষা পারে না কিন্তু কেউ ইংরেজি না পারলে জাজ করে। ব্যক্তিগত লিমিট থাকা স্বাভাবিক কিন্তু সেটাকেই ন্যায়বিচারের মানদণ্ড মনে করা অসহনশীলতা। মুক্তমনা কমিউনিটিতে এর নিদর্শন কম না। ...
ওয়ার্ক প্লেস মেন্টাল হেলথ কেয়ার
ওয়ার্ক প্লেস মেন্টাল হেলথ কেয়ার এটি একটি স্ক্যাম। আমার এই দাবীর সপক্ষে যুক্তি দিই। ওয়ার্ক প্লেস স্ট্রেসের কারণগুলো দেখা যাক। ১. হেভি ওয়ার্ক লোড ২. সিনিয়রদের দুর্ব্যবহার ৩. লম্বা ওয়ার্কিং আওয়ার্স ৪. ঠিকঠাক ব্রেক না পাওয়া ৫. কাজের তুলনায় বেতন ঠিকঠাক না পাওয়া ৬. ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স না থাকা এইসকল সমস্যার সমাধান হিসাবে যা করা উচিৎ: ১. কাজ অনুপাতে কর্মী নিয়োগ দেওয়া ২. কাজ অনুপাতে বেতন দেওয়া ৩. ওয়ার্কিং আওয়ার্স খুব লম্বা না করা ৪. প্রপার ব্রেক দেওয়া ...
জাতভেদ
জাতভেদ সামাজিক ক্যান্সার। তথাকথিত উঁচু জাতের মানুষেরা তাদের থেকে নীচু জাতের মানুষকে দাবিয়ে রাখতে চায়। তাদের অগ্রগতি আটকে দিতে চায়। কোনোভাবে যদি নীচু জাতের কেউ একটু পড়াশোনা শিখে আগাতে চায় তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়। এতদিনের আভিজাত্য তো আর এত সহজে ছাড়া চলে না। সব ভালো জিনিসে, সব সুযোগসুবিধায়, অগ্রাধিকার উঁচু জাতের। এতে যারা সমাজের একেবারে নিম্নস্তরের শোষিত শ্রেণী তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই জায়গায় আটকে থাকে। এইসকল বৈষম্যের কারণে দারিদ্র্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলতে থাকে কিছু পরিবারে। একজন গরীব ব্রাহ্মণের পক্ষে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আনা যতটা কঠিন একজন সদ্দারের পক্ষে তা আরও কয়েকগুণ কঠিন। উঁচু জাতের মধ্যবিত্ত ও ধনীরা এই বৈষম্য আরও বেশি করে টিকিয়ে রাখতে চায় কারণ এতে করে সস্তায় শ্রম পাওয়া যাবে। রাস্তা পরিষ্কার করার লোক, স্কুলের জমাদার, ম্যানহোল পরিষ্কার করার লোক ইত্যাদি হিসাবে তথাকথিত নীচু জাতকেই দেখতে চায় উঁচু জাতের মানুষেরা। ...
নার্সিং প্রফেশন
নার্সিং একটি এসেনশিয়াল সার্ভিস হওয়া সত্ত্বেও নার্সদের কাজকে নীচু চোখেই দেখা হয়। ‘অপবিত্র’ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের, যেমন, প্রসূতি মাতা, সদ্যোজাত কিংবা মুমর্ষু রোগীদের, স্পর্শ করেন নার্সরা, তাদের সেবা করেন জাতের বিচার না করেই। অনেক মানুষের কাছে এই কারণেও নার্সিং প্রফেশন খারাপ। আরও কিছু কারণ আছে যা এরপর আলোচনা করব। বলি নার্সদের বেতন নিয়ে। নার্সদের ও ডক্টরদের বেতনের পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। পশ্চিমবঙ্গের সেমিআরবান অঞ্চলে প্রাইভেট হসপিটালে ১৫০০-২০০০ রুপি থেকে মাসিক বেতন শুরু হয়, যা অবশ্যই জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট নয়। এছাড়া রয়েছে কর্মস্থলের সমস্যা। অনেকে এমন ধারণা রাখেন যে এই প্রফেশনে উপরে উঠতে গেলে ডক্টরদের বিশেষ সেবা দেওয়া লাগে। বুঝতেই পারছেন, এখানে যৌনসেবার কথা বলা হচ্ছে। কিছু জায়গায় এই সিস্টেম দ্বারা নার্সরা নিপীড়িত হন। ওয়ার্ক লোড অনুযায়ী নগণ্য বেতন পাওয়ার ফলে কেউ কেউ এতে জড়িয়েও পড়েন। এটাতে তাঁদের দোষ দেখার চেয়ে এই সিস্টেমের দোষ দেওয়া যুক্তিযুক্ত। ...