জাতভেদ সামাজিক ক্যান্সার। তথাকথিত উঁচু জাতের মানুষেরা তাদের থেকে নীচু জাতের মানুষকে দাবিয়ে রাখতে চায়। তাদের অগ্রগতি আটকে দিতে চায়। কোনোভাবে যদি নীচু জাতের কেউ একটু পড়াশোনা শিখে আগাতে চায় তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়। এতদিনের আভিজাত্য তো আর এত সহজে ছাড়া চলে না। সব ভালো জিনিসে, সব সুযোগসুবিধায়, অগ্রাধিকার উঁচু জাতের। এতে যারা সমাজের একেবারে নিম্নস্তরের শোষিত শ্রেণী তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই জায়গায় আটকে থাকে।

এইসকল বৈষম্যের কারণে দারিদ্র্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলতে থাকে কিছু পরিবারে। একজন গরীব ব্রাহ্মণের পক্ষে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আনা যতটা কঠিন একজন সদ্দারের পক্ষে তা আরও কয়েকগুণ কঠিন।
উঁচু জাতের মধ্যবিত্ত ও ধনীরা এই বৈষম্য আরও বেশি করে টিকিয়ে রাখতে চায় কারণ এতে করে সস্তায় শ্রম পাওয়া যাবে। রাস্তা পরিষ্কার করার লোক, স্কুলের জমাদার, ম্যানহোল পরিষ্কার করার লোক ইত্যাদি হিসাবে তথাকথিত নীচু জাতকেই দেখতে চায় উঁচু জাতের মানুষেরা।

উঁচু জাতের মানুষ সুযোগসুবিধা পেয়ে শিক্ষিত হয়েও এইসব প্রথা ভাঙার চেষ্টা করে না কয়েকটা কারণে:
১. তাদের নিজস্ব সুবিধার কথা ভেবে
২. সমাজের ভয়ে
৩. এইসব এলাকা থেকে বিমুখ হওয়ার কারণে।

অবশ্যই এডুকেশনাল কোয়ালিফিকেশন কারও মধ্যে সহানুভূতি তৈরী করতে পারে না। সাম্যের শিক্ষা দেওয়ার সময় আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশু ও কিশোর। যদিও জাতভেদের ছাপ লেগে যায় ছোটবেলার থেকেই, তবুও এদের যুক্তি দিয়ে বুঝানো তুলনামূলক সহজ। এছাড়া, এরাই ভবিষ্যতের পৃথিবী গড়বে। একটি গ্রামে গিয়ে যদি দুজনের মনেও এই ধারণা ঢোকানো যায় তাহলে তাদের থেকে আরও কয়েকজন শুনবে। এইভাবে এই আইডিয়া ছড়াবে।

অন্য বয়সের মানুষদেরও বুঝানোর চেষ্টা করা দরকার ফল কতটা কী হবে তা না ভেবে। প্রথা ভঙ্গ দরকার এবং সেই সাথে দরকার নতুন কুপ্রথা ও মিথ্যার প্রচার-প্রসার। শিক্ষার সাথে সহনুভূতিশীলতার বিশেষ সংযোগ নেই। প্রথাগত শিক্ষা মানুষকে অপরের ভালো চাইতে শেখায় না। কিন্তু এই শিক্ষার সাহায্য নিয়ে মানুষ দেশের অবস্থা বুঝতে পারে, নিজের অধিকার শিখতে পারে, ও প্রয়োজনে সংগঠিতও হতে পারে। স্ট্যাটাস কো-র কাছে তা ভয়ংকর।

এছাড়া আমাদের উচিত বাচ্চাদের এমনভাবে শিক্ষিত করা যাতে তারা কুপ্রথাকে যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন করতে পারে। হাল ছেড়ে দিয়ে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত না হয়ে পড়ে। এইসবের জন্য সাম্যে বিশ্বাসী মানুষদের উচিত সংগঠিত হওয়া ও এইসব এলাকায় কাজ করা। হ্যাঁ, অবশ্যই এই কাজ স্বার্থহীন। আমাদের সংগঠিত হওয়া সহজ নয়। মানুষের সহযোগিতা আশা করা যায় কিন্তু ভরসা করা যায় না।

এছাড়া প্রয়োজন রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করা। মিথ্যা খবর যে পরিমাণে ছড়ায় তার বিপরীতে দরকার সত্যটাকে ছড়ানো। একজনের কাছ থেকে যদি দুইজনও শিখে সেটা একটা এলাকাকে বদলে দেবার জন্য যথেষ্ট।