নার্সিং একটি এসেনশিয়াল সার্ভিস হওয়া সত্ত্বেও নার্সদের কাজকে নীচু চোখেই দেখা হয়। ‘অপবিত্র’ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের, যেমন, প্রসূতি মাতা, সদ্যোজাত কিংবা মুমর্ষু রোগীদের, স্পর্শ করেন নার্সরা, তাদের সেবা করেন জাতের বিচার না করেই। অনেক মানুষের কাছে এই কারণেও নার্সিং প্রফেশন খারাপ। আরও কিছু কারণ আছে যা এরপর আলোচনা করব।
বলি নার্সদের বেতন নিয়ে। নার্সদের ও ডক্টরদের বেতনের পার্থক্য চোখে পড়ার মতো। পশ্চিমবঙ্গের সেমিআরবান অঞ্চলে প্রাইভেট হসপিটালে ১৫০০-২০০০ রুপি থেকে মাসিক বেতন শুরু হয়, যা অবশ্যই জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট নয়। এছাড়া রয়েছে কর্মস্থলের সমস্যা। অনেকে এমন ধারণা রাখেন যে এই প্রফেশনে উপরে উঠতে গেলে ডক্টরদের বিশেষ সেবা দেওয়া লাগে। বুঝতেই পারছেন, এখানে যৌনসেবার কথা বলা হচ্ছে। কিছু জায়গায় এই সিস্টেম দ্বারা নার্সরা নিপীড়িত হন। ওয়ার্ক লোড অনুযায়ী নগণ্য বেতন পাওয়ার ফলে কেউ কেউ এতে জড়িয়েও পড়েন। এটাতে তাঁদের দোষ দেখার চেয়ে এই সিস্টেমের দোষ দেওয়া যুক্তিযুক্ত।
এত সবের পরেও যাঁরা সৎভাবে কাজ করে যান তাঁদের কাজের সঠিক মূল্যায়ণ হয় না। ৮-১২ ঘণ্টা ডিউটির সাথে তাঁরা অন্য কোনো চাকরি করতে পারেন না। এদিকে প্রাইভেট হসপিটালে ডক্টররা প্রায়ই রোগীদের নিজস্ব চেম্বারে ডেকে নিয়ে এক্সট্রা টাকা কামাতে পারেন। হসপিটালের থেকে প্রাপ্ত বেতনও নার্সদের তুলনায় অনেক বেশি। নার্সদের সার্ভিস ডক্টরদের সমান এবং কিছু ক্ষেত্রে বেশি প্রয়োজনীয় হওয়া সত্ত্বেও নার্সদের সেই সম্মান বা সম্মানী কোনটাই যথেষ্ট দেওয়া হয় না।
ভারতের হেলথকেয়ার সিস্টেম যত বেশি প্রাইভেটাইজ হবে, এই বৈষম্য তত বেশি বাড়বে।